Dhaka International university

হয়ে গেলো ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৬ষ্ঠ সমাবর্তন

Published Date :

গত ৭ এপ্রিল ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৬ষ্ঠ সমাবর্তন হয়ে গেলো পুলিশ কনভেনশন সেন্টার, মিরপুর-১৪ এ। ওইদিন সকালে সদ্য উত্তীর্ণ হওয়া গ্রাজুয়েটদের পদভারে মূখরিত হয়ে ওঠে কনভেনশন হলের বিশাল প্রাঙ্গন। তাদের পরনে ছিলো সমাবর্তনের কালো গাউন ও ক্যাপ। অনুষ্ঠান শুরু হওয়া কথা সকাল ১০টায়। কিন্তু সকাল ৮টা থেকে তাদের সমাগম ঘটতে থাকে। হলের সামনে বিশাল চত্বরে কেউ সেলফি অনেকে গ্রæপ হয়ে ছবি তুলতে থাকেন ভবিষ্যতে জীবনকে স্মৃতিময় করে তুলতে। হ্যাঁ, ওইদিন জীবনকে স্মৃতিময় করে তোলার ক্ষেত্র বটে। অধ্যায়ন শেষে সবাইকে তো কর্মময় জীবনে প্রবেশ করতে হবে। এরপর সাংসারিক জীবন। তখন আর বন্ধুদের সান্নিধ্য নেয়া বা দেয়া সম্ভব হবে না। কারণ, জীবন তখন ব্যস্ত ও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন শুধু স্মৃতিই ভরসা ।
সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বিভাগ অনুযায়ী গ্রাজুয়েটরা সারিবদ্ধ ভাবে হলে প্রবেশ করতে থাকে। প্রবেশ মুখ তাদের অভ্যর্থনা জানান, অনুষদের ডীন বৃন্দ। কানায় কানায় হলটি ভরে য়ায়।
শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও অত্র ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত সভাপতি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যত শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, এদেশে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে যেমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে তেমনি উপযুক্ত মানব সম্পদ তৈরির মাধ্যমে সরকার দেশকে বিশ্বের দরবারে একটি স্বয়ংসম্পন্ন, আতœনির্ভরশীল, টেকসই এবং উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তরুণ গ্রাজুয়েটরা তাদের মেধা, মনন, প্রজ্ঞা ও কর্ম দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে বিশ্বের দরবারে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। পাশাপাশি তারা যেন নিজেদের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জ্ঞানের রাজ্যটা কোনো মতাদর্শের, গোষ্টীচিন্তার, মেকি আদর্শবাদের কানাগলির দেশ নয়, বরং তা প্রকৃতির মতো উদার। এই ঔদার্য্য, প্রাগ্রসর চিন্তা, পরমতসহিষ্ণুতাই হচ্ছে জ্ঞানের একটি প্রকাশ। আর যখন জ্ঞানকে প্রক্রিয়াজাত করে তোমরা প্রজ্ঞার সন্ধান পাবে, দেখবে, তোমাদের স্বার্থচিন্তাটা চলে গেছে, তোমরা যতটা না নিজেদের উন্নতির জন্য ব্রতী, তার থেকে বেশি পরহিতের জন্য। শিক্ষাকে যদি ওই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে তোমাদের হাত ধরেই দেশটা আগামীর পথে এগিয়ে যেতে পারবে। তিনি গ্রাজুয়েটদর উদ্দেশ্যে আরও বলেন, তোমাদের স্বপ্ন যত বড় হবে, যত অন্যদের সেই স্বপ্ন জড়িয়ে দিবে তত সেটি রঙিন হবে এবং তত তোমাদের তা ঘিরে থাকবে। স্বার্থপর স্বপ্ন বুদ্ধুদের মতো। বুদ্ধুদের রং থাকে, নিশ্চয় খেয়াল করেছ, কিন্তু বুদ্ধুদ, তার রং সত্তে¡ও, নিতান্ত ক্ষণস্থায়ী।
স্বাগত বক্তব্যে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. মুহাম্মাদ শহীদুল কাদির পাটোয়ারী বলেন আজ আমরা সমাবর্তনে ১৬৫৭ গ্রাজুয়েটকে সনদ দিচ্ছি না, তারা সনদ অর্জন করে নিচ্ছে। ‘জ্ঞানই শক্তি’ আমরা এই আদর্শকে ধারন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছি।
ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কে এম মোহসীন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অধ্যাপক ড. এবিএম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তদের জন্য ১৯৯৫ সালে ৭ এপ্রিল এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তাই এখানে টিউশন ফি তুলনামুলক কম।বর্তমানে এখানে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী লেখা পড়া করছে। তার মধ্যে ৩শতাধিক বিদেশী ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া রয়েছে।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি বলেন, আজ ৩০ জন বিদেশীসহ ১৬৫৭ জন গ্রাজুয়েটকে সনদ নিচ্ছে, আমরা কামনা করি তারা সাফল্যর সাথে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে যেন প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাবর্তন উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এ্যাভোকেট শাহেদ কামাল পাটোয়ারীসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাইনুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ সেলিম ভূঁইয়া, সিন্ডিকেট সদস্য শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, ডীন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, গ্রাজুয়েটদের অবিভাবক, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

সমাবর্তনে ২জনকে চ্যান্সেলর এ্যাওয়ার্ড, ৫ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর এ্যাওয়ার্ড ও ৬ জনকে ডীন এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। শেষে বাপ্পা মজুমদার ও কিশোর ক্লাউডিসের সমান্বয়ে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গ্রাজুয়েটদের মাতিয়ে তোলেন।